বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৪

সাফল্যের শেষ নেই শেষ আছে ব্যর্থতার......কিছু বিখ্যাত লোকের সফলতার অনু গল্প...। আত্মউন্নয়ন মূলক পোস্ট কিছু নতুন বই(১০০০ মজার তথ্য ও ১০০০ বাংলা উক্তি


▬▬ஜ ۩۞۩ஜ▬▬
সাফল্যের শেষ নেই, শেষ আছে ব্যর্থতার-
কথাটি আসলেই সত্যি। কিন্তু আমাদের
জীবনে ঘটে যেন এর উল্টোটা। আমাদের
হতাশা ও অধৈর্যের জন্য সাফল্যের মুখ
আমরা সহজে দেখতে পাই না, দেখি শুধু
ব্যর্থতার মলিন চেহারা।
কোনো একটি কাজে দুই একবার ব্যর্থ
হলে আমরা মনে করি সব শেষ। আর
কোনো আশা নেই। ভাবতে থাকি সাফল্য
আমাদের জন্য নয়। যাদের কপাল ভালো,
যারা সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নিয়েছে,
সাফল্য তাদের জন্য। এই চরম সিদ্ধান্তটা নেয়ার
আগে নিচের ঘটনাগুলো একবার পড়ুন, তারপর
সিদ্ধান্ত নিন।
লিউন ইফরিস
----------------
একজন বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজ লেখক। তার শ্রেষ্ঠ
উপন্যাসের নাম এক্সোডাস। মজার কথা হচ্ছে,
এই লেখক হাই স্কুলে পড়াকালীন
ইংরেজিতে মোট তিনবার ফেল করেছিলেন।
আর যাই হোক, তার তো ইংরেজি ভাষার লেখক
হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল
লেখক হওয়ার, তাই শত বাধার মুখে তিনি হার
মানেননি। কপাল গুণে নয়, চেষ্টার গুণেই
তিনি তার সাফল্যের সোনার হরিণ
ধরতে পেরেছিলেন। তারপর শুধুই সাফল্য।
ক্লিন্ট ইস্টউডঃ
▬▬▬▬
বর্তমান সময়ের সফল হলিউড চিত্র পরিচালক
ক্লিন্ট ইস্টউড অভিনয়ে সুযোগ পাওয়ার জন্য
১৯৬৯ সালে যান ইউনিভার্সাল পিকচারের
স্বত্বাধিকারীর কাছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক
তাকে জানিয়েছিলেন, ‘তোমার
চেহারা ভালো নয়। তা ছাড়া তুমি কথা বল
ধীরে ধীরে। তুমি অন্য পেশার চেষ্টা করো। এই
ক্লিন্ট ইস্টউড পরবর্তীতে পরিশ্রম আর নিজ
লক্ষ্যে স্থির থেকে হয়েছেন হলিউডের অন্যতম
সেরা অভিনেতা। এখন তিনি একজন সফল
পরিচালক।
এলভিস প্রিস্টলি
▬▬▬▬
আমেরিকার জনপ্রিয় সঙ্গীত তারকা এলভিস
প্রিস্টলি’র নাম কে-না জানে। তার প্রথম গান
শুনে বিখ্যাত এক মিউজিক কোম্পানির
ম্যানেজার তাকে বলেছিলেন, ‘এ
লাইনে তোমার কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
তুমি বরং ট্রাক চালানো শেখো।’ কিন্তু এলভিস
ট্রাক চালানোর ধারে-কাছেও যাননি।
লক্ষ্যে সি’র থেকেছেন। শত বাধা অতিক্রম
করেছেন। তারপরের ইতিহাস আমাদের
জানা আছে। এখনো মনে সাহস পাচ্ছেন না?
তাহলে অধ্যবসায় ও সংগ্রামের আরো কিছু
ঘটনা শুনুন।
টমাস আলভা এডিসনঃ
▬▬▬▬
আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আবিষ্কারক
ছিলেন টমাস আলভা এডিসন।
শৈশবে মিশিগানের পোর্ট হিউরনের
স্কুলে তাকে ভর্তি করানো হলে শিক্ষকরা এডিসনের
মাকে ডেকে এনে জানালেন, আপনার
ছেলে খুব অলস। তাছাড়া সে সহজে কিছুই
বুঝতে পারে না। এডিসনের মা তাকে স্কুল
থেকে বাড়িতে এনে নিজেই পড়াতে লাগলেন।
তরুণ এডিসন প্রথমেই বিজ্ঞানের
প্রেমে পড়ে যান। তার বয়স যখন দশ, তখন
তিনি নিজেই তৈরি করেছিলেন তার
গবেষণাগার।
সারা জীবনে তিনি তেরোশোটি আবিষ্কার
করেছিলেন। তার এই অসাধারণ সাফল্যের কারণ
জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন- ‘এক
শতাংশ মেধা আর ৯৯ শতাংশ পরিশ্রম।’ দুই
হাজার বার চেষ্টা করে তিনি আবিষ্কার
করেছিলেন ইলেকট্রিক বাল্ব। এক সাংবাদিক
তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, দুই হাজার বার ব্যর্থ
হওয়ার অনুভূতি কেমন? এডিসনের ভাষায়,
‘আমি একবারও ব্যর্থ হইনি।
বাল্বটা আবিষ্কারের দুই
হাজারটা প্রক্রিয়া ছিল। আমি শুধু সেসব অনুসরণ
করেছি।’
জন মিল্টনেরঃ
▬▬▬▬
নাম আমরা অনেকেই জানি। তিনি ৪৪ বছর
বয়সে সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান। এর ষোল বছর পর
তিনি লিখেছিলেন বিশ্বসাহিত্যের অমর
সৃষ্টি ‘প্যারাডাইস লস্ট’সহ আরো অনেক
ক্ল্যাসিক। কারণ সাফল্যের শেষ নেই। শেষ
আছে কেবল হতাশার আর ব্যর্থতার।
জার্মান সুরকারঃ
▬▬▬▬
বেটোভেন ৪৬ বছর বয়সে বধির হয়ে যান।
আমরা হলে কি করতাম। ভাবতাম জীবন শেষ।
আর করার কিছু থাকল না। কিন্তু
তিনি সেটা ভাবেননি। ফলে কি ঘটল? শেষ
জীবনে তিনি লিখে গেছেন তার শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত
আর সেই সাথে পাঁচটি সিমফোনি। তিনি আজ
অমর। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কয়জন অমর
হতে পারে? এই প্রশ্ন কি আমরা নিজেদের
কোনোদিন করেছি?
বিমান দুর্ঘটনায় দুটি পা-ই হারান ইংরেজ
পাইলট ড্রগলাস বেডার। কৃত্রিম
দুটি পা লাগিয়ে তিনি আবার যোগ দেন
ব্রিটিশ রয়েল এয়ারফোর্সে। দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধে তিনি জার্মান বাহিনীর হাতে মোট
তিনবার ধরা পড়েন। আশ্চর্য তার মনোবল। কারণ,
তিনি তিনবারই পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
উইলমা রুডলফঃ
▬▬▬▬
বাবা-মার বিশতম সন্তান ছিলেন উইলমা রুডলফ।
সময়ের আগেই তার জন্ম হয়েছিল। বাঁচবে কিনা,
এই নিয়ে ডাক্তারদের মনে ঘোর সন্দেহ ছিল।
না, উইলমা মারা যাননি। তার বয়স যখন চার,
তখন তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন ডাবল
নিউমোনিয়ায়। ফলে তার বাম পা অবশ
হয়ে যায়। নয় বছর বয়সে তিনি মেটাল লেগ
ব্রেস ফেলে স্বাধীনভাবে হাঁটা শুরু করেন।
যা ডাক্তাররা বুঝতে পারলেন না। সে বছরই
তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি দৌড়বিদ হবেন।
এক দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ
করে তিনি লাস্ট হন। এর পর প্রতি বছর দৌড়
প্রতিযোগিতায় তিনি লাস্ট হতে লাগলেন।
একদিন এক দৌড় প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম
স্থান অর্জন করতে সক্ষম হন। ব্যর্থতার
সমাপ্তি ঘটল। কারণ এর পর সব প্রতিযোগিতায়
তিনি প্রথম হতে লাগলেন। সে ছোট্ট
মেয়েটি যাকে ডাক্তাররা বলেছিলেন সে আর
কোনোদিন হাঁটতে পারবে না। সে মেয়েটিই
কিনা অলিম্পিকে অংশগ্রহণ
করে তিনটি সোনা জিতেছিলেন। তীব্র
আকাঙ্ক্ষা, আর নিয়মিত পরিশ্রমের
মাধ্যমে মানুষ যে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে,
তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ এই কাহিনীটি।
ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টেরঃ
▬▬▬▬
কাহিনী কি আপনার জানা আছে? তিনি ৩৯ বছর
বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হন এবং তার এক
পা অবশ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে তিনি আমেরিকার শ্রেষ্ঠ নেতার
সম্মান পেয়েছিলেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট
নির্বাচিত হয়েছিলেন পর পর চারবার।
লুই লামুরঃ
▬▬▬▬
একজন ওয়েস্টার্ন লেখকের নাম লুই লামুর।
তিনি একজন বিশ্ববিখ্যাত লেখক।
জীবনে তিনি উপন্যাস লিখেছিলেন ৩৫০টি।
পুরস্কার পেয়েছেন অসংখ্য। তার লেখা অনুকরণ
করে বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে ওয়েস্টার্ন
সিরিজ। নানা ভাষায় তার লেখা অনূদিত
হয়েছে। শুনবেন তার প্রথম জীবনের কাহিনী?
তার প্রথম উপন্যাস তিনশো প্রকাশক
ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
আমরা হলে লেখালেখি অনেক আগেই
ছেড়ে দিতাম। কিন্তু তিনি তা করেননি। নিজ
লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। তাই তিনি সফল
হয়েছিলেন। আপনিও চেষ্টা করে দেখুন না।
তাই, হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। শুধু ধৈর্য
ধরতে হবে। ব্যর্থতার গ্লানি একদিন মুছবেই।
তারপর আসবে সাফল্যের স্বর্ণসিঁড়ি।
আপনি সেই সিঁড়ি ভেঙ্গে শুধু ওপরেই উঠবেন।
এটাই সফলতার ম্যাজিক ফরমুলা। আর
মনে রাখবেন- সাফল্যের শেষ নেই, শেষ
আছে ব্যর্থতার। এই কথাটাকে প্রমাণ করার জন্য
আপনাকে শোনাতে হলো অনেকগুলো সফল
মানুষের কাহিনী। এখন সবকিছু নির্ভর
করছে আপনার ওপর। সাফল্য কেউ
আপনাকে দিয়ে যাবে না। আপনাকেই
ছিনিয়ে আনতে হবে সফলতার সোনার হরিণকে।

৩টি মন্তব্য: