বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০১৪

বাংলাদেশের ভৌগোলিক তথ্য...। যে কোন রকম প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষা (যেমনঃ লিখিত + প্রিলি ) ছাড়াও আপনার নিজের জন্য ও লাগবে ...

এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে দক্ষিণ এশিয়ায়
বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশ
একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশ ২০০৩৪´
উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬০৩৮´ উত্তর
অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮০০১´ পূর্ব
দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২০৪১´ পূর্ব
দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের
মাঝামাঝি স্থান
দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
আয়তন :
▬▬▬▬▬▬
বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০
বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান
ব্যুরোর ১৯৯৬-৯৭ সালের তথ্য
অনুসারে দেখা যায়, বাংলাদেশের
নদী অঞ্চলের আয়তন ৯,৪০৫ বর্গকিলোমিটার।
বনাঞ্চলের আয়তন ২১,৬৫৭ বর্গকিলোমিটার।
বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশে উপকূল
অঞ্চলে বিশাল
এলাকা ক্রমান্বয়ে জেগে উঠেছে।
ভবিষ্যতে দক্ষিণ অংশের প্রসার
ঘটলে বাংলাদেশের আয়তন আরও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের টেরিটোরিয়েল সমুদ্রসীমা ১২
নটিক্যাল মাইল, অর্থনৈতিক একান্ত অঞ্চল
২০০ নটিক্যাল মাইল এবং সামুদ্রিক
মালিকানা মহীসোপানের শেষ সীমানা পর্যন্ত।
মায়ানমার ও ভারতের দাবিকৃত সমদূরত্ব
পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ১৩০
নটিক্যাল মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ
হয়ে পড়েছিল। তাতে বাংলাদেশ পেত ৫০,০০০
বর্গকিলোমিটারের কম জলসীমা।
বঙ্গোপসাগরের জলসীমা নির্ধারণ ও সমুদ্র
সম্পদের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার
লক্ষ্যে বাংলাদেশ ১৪ই ডিসেম্বর, ২০০৯
সালে মায়ানমারের বিপক্ষে জার্মানির
হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইন বিষয়ক
ট্রাইব্যুনালে এবং ভারতের
বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত
সালিশ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে।
বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গত ১৪ই মার্চ,
২০১২ সালে বাংলাদেশ-মায়ানমার মামলায়
আন্তর্জাতিক আদালত বাংলাদেশের
ন্যায্যভিত্তিক দাবির পক্ষে ঐতিহাসিক রায়
পায়। এ রায়ের ফলে বাংলাদেশ প্রায় এক লক্ষ
বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জলসীমা পেয়েছে।
এ রায়ের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন
দ্বীপকে উপকূলীয় বেজলাইন ধরে ১২ নটিক্যাল
মাইল রাষ্ট্রাধীন সমুদ্র এলাকা (Territorial sea
area ) এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র
অর্থনৈতিক অঞ্চল বা একান্ত অর্থনৈতিক
অঞ্চল (Exclusive economic zone ) পেয়েছে।
প্রাপ্ত এই জলরাশি ও তলদেশে এবং তার
বাইরে মহীসোপান এলাকার সকল খনিজ
সম্পদে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার
নিশ্চিত হয়েছে। এই হিসেবে উপকূল থেকে ৩৫০
নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সাগরের
তলদেশে বাংলাদেশের মহীসোপান রয়েছে (১
নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার)। অর্থাৎ
বাংলাদেশের উপকূলীয় ভূখণ্ড সমুদ্রে ৩৫০
নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার
ভৌগোলিক নাম মহীসোপান।
সীমা :
▬▬▬▬▬▬
বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ,
মেঘালয় ও আসাম রাজ্য; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা,
মিজোরাম রাজ্য ও মায়ানমার;
দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত। এর মধ্যে ভারত-
বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩৭১৫.১৮
কিলোমিটার। বাংলাদেশ-মায়ানমার
সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার
এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য
৭১৬ কিলোমিটার (চিত্র ১০.১)।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির ভিন্নতা
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূপ্রকৃতি দেশের কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, বাণিজ্য,
পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর ব্যাপক
প্রভাব বিস্তার করে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূপ্রকৃতির
প্রভাব অপরিসীম। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম
বৃহৎ ব-দ্বীপ। গঙ্গা নদী পশ্চিম, ব্রহ্মপুত্র নদ
উত্তর, সুরমা ও কুশিয়ারা নদী উত্তর-পূর্ব দিক
থেকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ
করে একযোগে সুবিশাল দ্বীপের সৃষ্টি করেছে।
স্থায়ী বসবাসের জন্য সমভূমিই আদর্শ।
বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ
সমভূমি। বাংলাদেশে সামান্য
পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে।
ভূপ্রকৃতির ভিন্নতার
ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত
তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১। টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
নিচে এগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো।
১। টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ : বাংলাদেশের
দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের
পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের
অন্তর্ভুক্ত। টারশিয়ারী যুগে হিমালয় পর্বত
উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড়
সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো টারশিয়ারী যুগের পাহাড়
নামে খ্যাত। পাহাড়গুলো আসামের লুসাই
এবং মায়ানমারের আরাকান পাহাড়ের
সমগোত্রীয়। এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও
কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের
পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (ক) দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ :
রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার
ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের
অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলোর গড়
উচ্চতা ৬১০ মিটার। ১,২৩০ মিটার
উচ্চতাবিশিষ্ট শৃঙ্গ কিওμাডং এ অঞ্চলের
দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।
সাম্প্রতিককালে বান্দরবানে আরও একটি শৃঙ্গ
আবিষ্কৃত হয়েছে। এর নাম তাজিনডং (বিজয়)
এবং উচ্চতা ১,২৩১ মিটার। এটিই বাংলাদেশের
সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ :
ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ,
সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তরপূর্বাংশ
এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার
দক্ষিণের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪
মিটারের বেশি নয়। উত্তরের
পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে ঢিলা নামে পরিচিত।
এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ :
আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের
সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
উত্তরপশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার
লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এঅঞ্চলের
অন্তর্গত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান
গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিচে এসব
উচ্চভূমির বর্ণনা দেওয়া হলো।
(ক) বরেন্দ্রভূমি : দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের
প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায়
বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত। প্লাবন সমভূমি হতে এর
উচ্চতা ৬ খেকে ১২ মিটার। এ স্থানের
মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।
(খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় : টাঙ্গাইল ও
ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায়
ভাওয়ালের গড় অবস্থিত। এর আয়তন প্রায়
৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। সমভূমি থেকে এর
উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। মাটির রং লালচে ও
ধূসর।
(গ) লালমাই পাহাড় : কুমিল্লা শহর থেকে ৮
কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই
থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত। এর
আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড়
উচ্চতা ২১ মিটার।
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি :
টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ
এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক
বিস্তীর্ণ সমভূমি। অসংখ্য ছোট-বড় নদী,
বাংলাদেশের সর্বত্র জালের
মতো ছড়িয়ে রয়েছে। সমতলভূমির উপর দিয়ে এ
নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার
কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর
বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত
মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত
হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায়
১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। এ
সমভূমি বাংলাদেশের উত্তর অংশ
থেকে উপকূলের দিকে ক্রমনিম্ন। সুন্দরবন
অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত। সমুদ্র
সমতল থেকে বাকি অঞ্চলগুলো যেমন-
দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার
উচ্চতা ২০ মিটার, ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮
মিটার এবং নারায়ণগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮
মিটার। এই
অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে অসংখ্যজলাভূমি ও
নিম্নভূমি ছড়িয়ে আছে। এর কিছু সংখ্যক
পরিত্যক্ত অশ্বখুরাকৃতি নদীখাত।
স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওর
বলে। এদের মধ্যে চলনবিল, মাদারিপুর বিল ও
সিলেট অঞ্চলের হাওরসমূহ বর্ষার
পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে হ্রদের আকার ধারণ করে।
সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর
এবং ভূমি খুবই উর্বর। সাম্প্রতিককালের প্লাবন
সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন-
(ক) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
(খ) ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর,
পাবনা, কুমিল্লা, নোয়াখালি ও সিলেটের
অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
(গ) ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও
ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ
সমভূমি।
(ঘ) নোয়াখালি ও ফেনী নদীর নিমড়বভাগ
থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের
উপকূলীয় সমভূমি।
(ঙ) খুলনা ও পটুয়াখালি অঞ্চল
এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ
সমভূমি।
বাংলাদেশের এ অঞ্চলগুলোর মাটি খুব উর্বর
বলে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের
ক্ষেত্রে তা উলে−খযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদী (Main Rivers of
Bangladesh)
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা প্রায় ৭০০।
অধিকসংখ্যক নদী থাকার
কারণে বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলে।
এজন্য এ দেশের মানুষের জীবনযাত্রা,
সাংস্কৃতিক ও অর্থনীতির উপর নদীর প্রভাব
রয়েছে। পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা ও
কর্ণফুলী বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদী। এ নদ-
নদীগুলোর উপনদী ও শাখানদী রয়েছে।
উপনদী ও শাখানদীসহ বাংলাদেশের নদীর মোট
দৈর্ঘ্য হলো প্রায় ২২,১৫৫ কিলোমিটার।
নিচে বাংলাদেশের নদীগুলোর
বর্ণনা দেওয়া হলো ।
পদ্মা :
------------
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা।
গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ
থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। এরপর
প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক
থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট
সমভূমিতে পড়েছে। এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ
ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত
হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান
নামক স্থানে ভাগীরথী (হুগলি নদী) নামে এর
একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য
দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। গঙ্গা নদীর মূল
প্রবাহ রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম
প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত
পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর
এসে কুষ্টিয়ার উত্তরপশ্চিম
প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর
দৌলতদিয়ার নিকট যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত
হয়েছে। গঙ্গার মূল
ধারা হওয়াতে দৌলতদিয়া পর্যন্ত
এইবাংলাদেশের এ অঞ্চলগুলোর মাটি খুব উর্বর
বলে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের
ক্ষেত্রে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
এরপর দৌলতদিয়ার নিকট যমুনা নদীর
সঙ্গে মিলিত হয়েছে। গঙ্গার মূল
ধারা হওয়াতে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এই
বাংলাদেশের নদ-নদী নদীটি গঙ্গা নদী নামেই
পরিচিত। তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর
থেকেই
স্থানীয়ভাবে অনেকে একে পদ্মা নামে চেনে।
গঙ্গা ও যমুনার মিলিত
ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত
হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলিত
হয়েছে। এই তিন নদীর মিলিত প্রবাহ
মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের
আয়তন হচ্ছে ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার। কুমার,
মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল
খাঁ ইত্যাদি গঙ্গা-পদ্মা নদীর প্রধান উপনদী।
পুনর্ভবা, নাগর, পাগলা, কুলিক ও ট্যাংগন
মহানন্দার উপনদী।
ব্রহ্মপুত্র :
------------
এ নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের
নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপনড়ব হয়ে প্র
মে তিব্বতের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে ও
পরে আসামের ভিতর দিয়ে পশ্চিম
দিকে প্রবাহিত হয়েছে। অতঃপর ব্রহ্মপুত্র
কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য
দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর
দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্বে বাঁক
নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত
হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পতিত
হয়েছে। ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান
উপনদী এবং বংশী ও শীতলক্ষ্যা প্রধান
শাখানদী।
যমুনা :
------------
ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের
কাছে ব্রহ্মপুত্রের
শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণে প্রবাহিত
হয়ে দৌলতদিয়ার কাছে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত
হয়ে পদ্মা নাম ধারণ করে দক্ষিণ-পূর্ব
দিকে প্রবাহিত হয়। করতোয়া ও আত্রাই যমুনার
প্রধান উপনদী। ধলেশ্বরী এর
শাখানদী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
মেঘনা :
------------
আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চল
থেকে উৎপন্ন হয়ে সুরমা ও
কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের
সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে। উত্তরের
শাখা সুরমা পশ্চিম দিকে সিলেট, ছাতক,
সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
আজমিরীগঞ্জের কাছে উত্তর সিলেটের সুরমা,
দক্ষিণ সিলেটের
কুশিয়ারা নদী এবং হবিগঞ্জের
কালনী নদী একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।
পরে কালনী, সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত প্রবাহ
কালনী নামে দক্ষিণে কিছুদূর প্রবাহিত
হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
মেঘনা ভৈরববাজারের দক্ষিণে পুরাতন
ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-
পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের
কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত
হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চল
হচ্ছে ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার। মনু, বাউলাই,
তিতাস, গোমতী মেঘনার উপনদী।
কর্ণফুলী :
------------
আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপনড়ব
হয়ে প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ
কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের
মধ্য দিয়ে প্রবাহিত
হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এটি চট্টগ্রাম ও
রাঙামাটির প্রধান নদী। কর্ণফুলীর প্রধান
উপনদী কাসালাং, হালদা এবং বোয়ালখালি।
কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ
দিয়ে ‘কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র’স্থাপন
করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।
সাঙ্গু :
------------
এ নদীর উৎপত্তি আরাকান পাহাড়ে। মায়ানমার
ও বাংলাদেশ সীমানায় আরাকান পাহাড়
থেকে উৎপন্ন হয়ে বান্দরবান ও চট্টগ্রামের
উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলী নদীর
মোহনার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
ফেনী :
ফেনী নদী ফেনী জেলায় অবস্থিত। এ নদীর
উৎপত্তিস্থল পার্বত্য ত্রিপুরায়। ফেনী জেলার
পূর্ব সীমা দিয়ে সন্দ্বীপের
উত্তরে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
নদী ও জলাশয় ভরাটের কারণঃ
------------------------------------
, প্রভাব ও প্রতিরোধ বাংলাদেশে নদী ও
জলাশয় ভরাটের পিছনে বহুবিধ প্রাকৃতিক ও
মানবসৃষ্ট কারণ জড়িত রয়েছে। বাংলাদেশের
প্রায় সমগ্র ভূপৃষ্ঠ পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
পলিমাটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পানির
সংস্পর্শে এটি সহজে দ্রবণে পরিণত হয়।
বর্ষাকালে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব
দিকে এবং এর উজানে প্রতিবেশী দেশ চীন,
নেপাল, মায়ানমার ও ভারতের আসাম ও
মেঘালয়ে অপেক্ষাকৃত অধিক বৃষ্টি হয়।
বর্ষাকালে উজান
থেকে আসা খরস্রোতা নদীগুলো পাহাড়ি পলি বয়ে নিয়ে আসে এবং নদীতীরে ভাঙনের
সৃষ্টি করে। ভাটিতে নদীগুলোর স্রোতের
গতি কমে যায় তখন নদীগুলোর
তলদেশে পলি সঞ্চিত হয়ে ভরাট হয় ও
ক্রমে নাব্যতা হারাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ
বিভিনড়ব নদী ও জলাশয়গুলোর
দুধারে অপরিকল্পিত বাঁধ, সড়ক, কলকারখানা,
আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ ও পয়ঃনিষ্কাশনের
নির্গমন স্থান হিসেবে ব্যবহার এবং নদী-
জলাশয়গুলোর অপদখল ও ভরাটকরণের ফলে দ্রুত
নদী ও জলাশয়গুলো মরে যাচ্ছে। বাংলাদেশের
সঙ্গে আন্তর্জাতিক নদীগুলো নিয়ে বিরোধ ও
ঐগুলো থেকে পানি প্রত্যহারের ফলে পানির
খরস্রোতধারা কমে যাওয়ায় নদীর মোহনায়
পলি সঞ্চিত হয়ে চর জেগে উঠছে। নদী ও
জলাশয়গুলো ভরাটের কারণে বর্ষাকালে পানির
প্রবাহধারা বাধাগ্রস্ত এবং দুকূল
উপচিয়ে বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। আর
শুষ্ক মৌসুমে ঐগুলোতে পর্যাপ্ত
পানি না থাকায় নৌ-চলাচল, সেচ ব্যবস্থা ও
মাছচাষ ব্যাহত হচ্ছে। প্রাকৃতিক পানির
জলাধারের সংরক্ষণ ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে সংকুচিত
হওয়ায় শহরগুলোতে পানির সরবরাহ
কমে যাচ্ছে ও পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে।
বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত নদী ও
জলাশয়গুলো ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করে এদের
নাব্যতা রক্ষা করা, পরিকল্পিত ও পরিবেশ
উপযোগীভাবে বাঁধ এবং অন্যান্য উনড়বয়ন
প্রকল্প গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। আরও
প্রয়োজন অপদখলীয় নদী ও জলাশয় উদ্ধার,
পাহাড়কাটা বন্ধকরণ, কলকারখানার
সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে বর্জ্য পরিশোধন
ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের
ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। ভারত, নেপাল ও চীনের
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নদী গঙ্গা,
তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ফেনীসহ অন্যান্য
নদীগুলোর ন্যায্যতার ভিত্তিতে পানির
হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। সামগ্রিকপরিবেশক
ে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিদ্যমান
পরিবেশ আইন যুগোপযোগী ও
কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা একান্তপ্রয়োজন।
জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণত সমভাবাপন্ন।
দেশের
মাঝামাঝি দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম
করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে।
কিন্তু মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর
উপর এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের
জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
নামে পরিচিত। মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য
হলো বছরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঋতুর
আবির্ভাব। এ বিভিন্ন ঋতুতে জলবায়ুর
কিছুটা তারতম্য হয়। কিন্তু কোনো সময়ই
শীতপ্রধান ও গ্রীষ্মপ্রধান দেশের
মতো চরমভাবাপন্ন হয় না। উষ্ণ ও আর্দ্র
গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল বাংলাদেশের
জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বার্ষিক
গড় তাপমাত্রা ২৬.০১০ সেলসিয়াস এবং গড়
বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার। মৌসুমি বায়ুর
প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত
বৃষ্টিপাত হয় (চিত্র ১০.৫)। বাংলাদেশের
সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ,
বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার
ভিত্তিতে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (ক) গ্রীষ্মকাল, (খ) বর্ষাকাল ও (গ)
শীতকাল।
(ক) গ্রীষ্মকাল : বাংলাদেশে মার্চ
থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত
গ্রীষ্মকাল। এ সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর
লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এ
ঋতুতে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
নিচে এ ঋতুর তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ ও
বৃষ্টিপাতের বর্ণনা দেওয়া হলো।
তাপমাত্রা :
--------
বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু
হলো গ্রীষ্মকাল। এ সময়ে সর্বোচ্চ
তাপমাত্রা ৩৪০ সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন
তাপমাত্রা ২১০ সেলসিয়াস। গড়
হিসেবে এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮০
সেলসিয়াস পরিলক্ষিত হয়। এপ্রিল উষ্ণতম মাস,
এ সময় সমুদ্র উপকূল থেকে দেশের
অভ্যন্তরভাগে তাপমাত্রা ক্রমশ
বৃদ্ধি পেতে থাকে ।
বৃষ্টিপাত :
--------
কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার
অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই ঝড় বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল
বেগে মার্চ-এপ্রিল মাসে প্রবাহিত হয়।
বাংলাদেশের এক-পঞ্চমাংশ বৃষ্টিপাত
কালবৈশাখীর মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
বাংলাদেশে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের শতকরা প্রায়
২০ ভাগ গ্রীষ্মকালে হয়। এ সময় গড় বৃষ্টিপাতের
পরিমাণ ৫১ সেন্টিমিটার।
বায়ুপ্রবাহ :
--------
গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্যের
উত্তরায়ণের জন্য বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে। এ
সময় বাংলাদেশে দক্ষিণ দিক থেকে আগত উষ্ণ
ও আর্দ্র বায়ুপ্রবাহ অধিক উত্তাপের
প্রভাবে উপরে উঠে উত্তর-পশ্চিম দিক
থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহের
সঙ্গে সংঘর্ষে বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টি হয়।
(খ) বর্ষাকাল : বাংলাদেশে জুন
থেকে অক্টোবর মাস (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত
বর্ষাকাল। অর্থাৎ গ্রীষ্ম ও শীতের
মাঝামাঝি বৃষ্টিবহুল সময়কে বর্ষাকাল
বা বর্ষা ঋতু বলে। জুন মাসের প্রথম
দিকে মৌসুমি বায়ুর আগমনের
সঙ্গে সঙ্গে বর্ষাকাল শুরু হয়ে যায়।
নিচে বর্ষা ঋতুর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো।
তাপমাত্রা :
--------
বর্ষাকালে সূর্য বাংলাদেশে প্রায়
লম্বভাবে কিরণ দেয়।
ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আকাশে মেঘ
থাকে এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, ফলে এ সময়
অধিক তাপমাত্রা অনুভূত হয় না। গড়
তাপমাত্রা ২৭০ সেলসিয়াস।
বৃষ্টিপাত :
--------
বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর
এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসার সময়
প্রচুর জলীয়বাষ্প সমদ্ধৃ থাকে। এ জলীয়বাষ্প
শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রচুর
বৃষ্টিপাত ঘটায়। বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায়
৮০ ভাগ এ সময়ে হয়।
বায়ুপ্রবাহ :
--------
জুন মাসে বাংলাদেশের উপর সূর্যের অবস্থানের
কারণে বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে।
বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর থেকে আগত
দক্ষিণ-পশ্চিম অয়ন বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু
করলে বর্ষাকাল আরম্ভ হয়। এ সময় উত্তর-পূর্ব
অয়ন বায়ু অন্তর্হিত হয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন
বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র
অনুসারে উত্তর গোলার্ধে ডান
দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম
মৌসুমি বায়ুতে পরিণত হয়।
বর্ষা শেষে বাংলাদেশে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড়
আঘাত হানে।
(গ) শীতকাল :
--------
সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ
থেকে ফেব্রুয়ারী মাস (কার্তিক-ফাল্গুন)
পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে। সেপ্টেম্বর ও
অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।
তাপমাত্রা : আমাদের
দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে।
এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯০ সেলসিয়াস
এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১০ সেলসিয়াস।
জানুয়ারি শীতলতম মাস এবং এ মাসের গড়
তাপমাত্রা ১৭.৭০ সেলসিয়াস।
শীতকালে দেশের উপকূল ভাগ থেকে উত্তর
দিকে তাপমাত্রা কম থাকে। বাংলাদেশের
ইতিহাসে ১৯০৫ সালে দেশের
উত্তরাঞ্চলে দিনাজপুরে সর্বনিম্ন ১০
সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
বৃষ্টিপাত : শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত
প্রায় হয় না বললেই চলে। উত্তর-পূর্ব
মৌসুমি বায়ু এ সময়
বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
শীতকালে সাধারণত উপকূলীয় ও
পাহাড়ি এলাকায় সামান্য
বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এ সময়ে ১০
সেন্টিমিটারের অধিক নয়।
বায়ুপ্রবাহ : উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত
হওয়ার কারণে শীতকালে বাতাসের
আর্দ্রতা কম থাকে। এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন
আর্দ্রতা শতকরা প্রায় ৩৬ ভাগ। দেশের
উত্তরাঞ্চলের উপর দিয়ে কখনো কখনো তীব্র
শীতল বায়ু প্রবাহিত হওয়ার ফলে বেশ শীত
অনুভূত হয়।
মৌসুমি বায়ু : মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের
জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। জুন মাসের
প্রারম্ভে বঙ্গোপসাগর থেকে আগত উষ্ণ ও
আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের
পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায়
বাধাপ্রাপ্ত হলে বৃষ্টিপাত হয়। জুন
থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বত্র
মৌসুমি বায়ু দ্বারা বৃষ্টিপাত ঘটে এবং তখনই
এখানে বর্ষাকাল। বর্ষাকালীন
সময়ে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে প্রায়ই নিম্নচাপ
(Depression) বা ঘূর্ণিবাতের (Cyclone) সংযোগ
থাকে। বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের চার-পঞ্চমাংশ
বর্ষাকালে হয়ে থাকে। মেঘাচ্ছনড়ব আকাশ ও
অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য
বর্ষাকালে তাপমাত্রা গ্রীষ্মকাল অপেক্ষা কম
থাকে। মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত
গ্রীষ্মকাল। এপ্রিল উষ্ণতম মাস। কিন্তু
সেপ্টম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রার বিশেষ
কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না।
উষ্ণতা অপেক্ষা আর্দ্রতার উপর নির্ভর করেই
এই দুই কালের প্রভেদ করা যায়।
গ্রীষ্মকালে বায়ুর উষ্ণতা সাগর থেকে দেশের
অভ্যন্তর দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার
অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই ঝড় বিদ্যুৎ এবং বজ্রসহ
প্রবল বেগে মার্চ-এপ্রিল মাসে সাধারণত
উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। তীব্র
গতি সম্পন্ন কালবৈশাখী ঝড় দেশের প্রচুর
ক্ষতি করে। বাংলাদেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ
বৃষ্টিপাত কালবৈশাখীর দ্বারা সংঘটিত হয়।
গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাত চাষের জন্য বিশেষ
উপযোগী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন